
দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট ও পর্যটন এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা থেকে নির্গত ময়লা পানি সরাসরি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন ছড়া, নালা ও ড্রেন দিয়ে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ও দূষিত পানি সৈকতে মিশছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহরের প্রধান পর্যটন এলাকাগুলোর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিত ড্রেন ও নালার মাধ্যমে ময়লা পানি সৈকতের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের মুখ সরাসরি সাগরে গিয়ে পড়েছে। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে এসব বর্জ্য ও দূষিত পানি সৈকতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছে।
দূষিত পানির কাছাকাছি কিংবা অনেক ক্ষেত্রে ওই পানিতেই পর্যটকদের গোসল করতে দেখা যাচ্ছে। এতে চর্মরোগ, চোখের সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য সামুদ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা হলেও আধুনিক ও সমন্বিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। পর্যটন মৌসুমে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাপ বাড়লেও সে অনুযায়ী ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশন সুবিধা গড়ে ওঠেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটন এলাকার ময়লা পানি যাতে কোনোভাবেই সরাসরি সাগরে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত আধুনিক ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি পর্যটন এলাকার সড়ক উন্নয়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সৈকত ব্যবস্থাপনায় কঠোর আইন প্রয়োগের দাবিও উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম প্রধান ব্র্যান্ড। তাই অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে সৈকতের পরিবেশ ও পর্যটন ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন পরিবেশও আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।